Bangladesh United Students of Economics-BUSE

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

Saturday, November 25, 2023

ক্রাইসিস টাইম: অর্থ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কনসেপ্ট পরিবর্তন অত্যাবশ্যক

মোঃ মেহেদী হাসান

কোশ টেপা ক্যানাল (Qosh Tepa Canal) বর্তমান আফগান সরকারের একটি প্রথম ও প্রধান মেগা প্রোজেক্ট যার দৈর্ঘ্য ২৮৫ কিলোমিটার। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে শুরু করা এই প্রোজেক্ট তিন ধাপে ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। প্রথম ধাপ ২৪ মাসে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও মাত্র ১৮ মাসে ১০৮ কিলোমিটারের ১ম ধাপ অর্থাৎ মোট কাজের প্রায় ৩৭.৮৯ শতাংশ সম্পূর্ণ শেষ! এখন, ধারণা করা হচ্ছে ২০২৮ সাল নয়, ২০২৫ সালের শেষের দিকেই ১০০ ভাগ সম্পূর্ণ হবে! 


                                                কোশ টেপা ক্যানাল- আফগানিস্তান

অথচ, এই প্রোজেক্টে বিদেশি ঋণ চীন, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন দিতে চেয়েছিল কিন্তু বর্তমান আফগান সরকার এই প্রোজেক্ট বাবদ কোন বৈদেশিক ঋণ বা সহযোগিতা নেয়নি। তারা নিজেরাই লোকাল ছোট ছোট কন্ট্রাক্টর ও দেশী লোকজনের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এতো দ্রুত ও দুর্নীতি মুক্ত ভাবে কাজটি করছে। এতে করে দেশের লোকজন যেমন কর্মসংস্থান পাচ্ছে, তেমনি বড় প্রোজেক্টের নামে বড় বড় আন্তর্জাতিক ঋণ মাফিয়াদের হাত থেকে জনগণের ভবিষ্যত বিক্রয় হচ্ছে না, আন্তর্জাতিক মহলের দাদাগিরির কোন সুযোগ হচ্ছে না। দেশের জনগণকে স্বচ্ছতার ও ধর্মীয় চেতনাবোধের মাধ্যমে এক কাঁতারে দাঁড় করিয়ে সম্মিলিত ভাবে সবচেয়ে কম খরচে, দেশীয় মেধা ও জনবল কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি মুক্ত থেকে দেশের উন্নয়নের কাজ করেই চলছে নিরন্তর। এই প্রোজেক্ট সম্পূর্ণ হলে আফগানিস্তানের ৫ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমি কৃষি কাজের উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 অথচ, বাংলাদেশ শুধু একট অর্থ বছরে অর্থাৎ ২০২৩-২০২৪ চলমান অর্থবছরে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার! আগের অর্থবছরের ঋণ ও ঘাটতি তো আছেই; আবার সবগুলো ঋণের সুদ হিসেব করলে মাথা ঘুরে যাবে! দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার অর্থনীতির ব্যালেন্স ঠিক না রেখে ঢালাও ভাবে বৈদেশিক ঋণ নিয়ে 'উন্নয়ন' যে কত বড় সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকার এতো দিনে বুঝতে পারেনি- কারণ বাংলাদেশের প্রধান দুটি আয় খাত- তৈরি পোষাক খাত ও বৈদেশিক রেমিট্যান্স খাত সঠিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল বিধায়। কিন্তু, বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিপেক্ষিতে পশ্চিমাবিশ্বের সাথে যে কোন্দল দিন দিন বাড়ছে, তাতে বাংলাদেশের এই অন্ততপক্ষে প্রধান দুটি আয়ের খাত- তৈরি পোষাক খাত ও বৈদেশিক রেমিট্যান্স ব্যাপক হারে বাঁধার সম্মুখীন হবে; দফায় দফায় স্যাংশন আসতে পারে বলে সবাই ধারণা করছে। ফলে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ডলার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরবরাহ না থাকলে, কেমন করে বাংলাদেশ শুধু মাত্র ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ করবে! অথচ, বিগত অর্থবছরগুলোর ঋণ ও তাদের সুদ পরিশোধ করা তো বাড়তি সমস্যা সৃষ্টি করবে। এমনতাবস্থায়, বাংলাদেশের অর্থ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কনসেপ্টের পরিবর্তন আনা কি সময়ের দাবী নয়?

আফগানিস্তানের যুদ্ধের লম্বা ইতিহাস পৃথিবীর সব শিক্ষিত বিশ্বচেতন মানুষের জানা কথা। যেখানে নীতি-আদর্শ আপোষহীন সেখানে ভালো-মন্দের সংঘাত অনিবার্য; কিন্তু, ঐ সংঘাত-সংঘর্ষ দেখেই আমরা, সারাবিশ্বের মানুষ কোন না কোন পক্ষ অবলম্বন করেই কাউকে 'সন্ত্রাসী' বা কাউকে 'দখলদার' বলে দোষারোপ করি। কিন্তু, সমস্ত ঝড়ের পরে বর্তমান আফগানিস্তানের সরকার যে দেশীয় দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক মাফিয়া মুক্ত যে অর্থ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছে তা সারা বিশ্বে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতন। যেখানে, আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার ক্ষমতা দখলের সময় (আগস্ট ২০২১- ডিসেম্বর ২০২১) ১ ডলার সমান প্রায় ১১০ আফগানি মুদ্রা অবধি এক্সচেঞ্জ হতো, তা এখন বিশ্ব অর্থনৈতিক দূরাবস্থা, কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের পরেও বর্তমানে আফগানিস্তানে ১ ডলার সমান ৬৯ আফগানি মুদ্রা এক্সচেঞ্জ রেট! যেখানে বাংলাদেশ, ভারত, রাশিয়া সহ বহু দেশের এক্সচেঞ্জ রেটে ধস নেমেছে এবং বাংলাদেশে ৮৫ টাকা থেকে এক্সচেঞ্জ রেট ১১০ পেরিয়ে গেছে; সেখানে সারাবিশ্বে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করছে আফগানি মুদ্রা! দীর্ঘ বছর ধরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটা দেশ, কিভাবে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ নিলো, কিভাবে অর্থ ব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটালো এবং সারাবিশ্বে বয়কট পেয়েও, কোন ফরমাল স্বীকৃতি না পেয়েও কিভাবে আফগানিস্তানের অর্থনীতি এতো দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে - এটা আমাদের আগামীর স্যাংশনময় বাংলাদেশের  জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। 
 
বাংলাদেশে পরতে পরতে দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাতের অধঃপতন, রাজনৈতিক পদস্খলন জনিত অনিশ্চয়তা ও শ্রম বাজারে অনিশ্চয়তা এসব কারণে পশ্চিমা বিশ্বের লাগাতার একটার পরে একটা স্যাংশন অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য এসব পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
সেক্ষেত্রে, দেশের অর্থ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কনসেপ্টে নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে ওঠবে- যার কিয়দাংশ আমরা বর্তমানের আফগানিস্তানের অর্থ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কনসেপ্ট থেকে শিখতে পারি।
 
লেখক পরিচিতিঃ
মোঃ মেহেদী হাসান
গবেষক ও কলামিস্ট 
  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment