Bangladesh United Students of Economics-BUSE

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

Saturday, November 30, 2024

বাংলাদেশে ভারতের 'হিন্দু নির্যাতন' কার্ড, মোদীর গোদি আর বাংলাদেশের ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উত্তর অগ্রগতি

মোঃ মেহেদী হাসানঃ- 
ভয়েস অফ আমেরিকার এক জরিপে দেখা গেছে- 'সংখ্যালঘু সম্প্রদায় 'আগের তুলনায় বেশি নিরাপত্তা পাচ্ছে'  (https://www.voabangla.com/a/7876311.html) তবুও, ভারতের প্রোপাগাণ্ডার ঠেলায় মাঠ পর্যায়ের ভয়েস অব আমেরিকার সত্য ও নিরপেক্ষ জরিপ'টা আওয়ামী-ইসকন লীগ তথা দেশকে অস্থিতিশীল যারা করতে চায়, তারা মানতে চাচ্ছে না। কারো মানা বা না মানা নিয়ে সত্য পাল্টে যায় না, সত্য হলো- ভারত ও ভারতীয় সেবা দাস'রা কল্পিত 'হিন্দু নির্যাতন' এর প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে ভয়-ভীতি ছড়ালেও, গলা কেটে জবাই হলো কিন্তু মুসলিম, ৫ই আগস্টের বিপ্লবের পর কোন হিন্দুর প্রকাশ্যে গলা কেটে মারা হয়নি। 
অথচ, আওয়ামী লীগের আমলে বহু আলেম-ওলামাকে ফাঁসি দিয়ে মারছে, জেল-হাজতে , আয়নাঘরে নির্যাতন করেছে, শাপলা চত্বরে ব্রাশ ফায়ারে শত শত আলেমকে মেরেছে- তবুও আজও কোন মুসলিম কোন হিন্দু বা অন্য কোন ধর্মের কারো গলা কেটে জবাই করেনি; নিজেরা প্রতিবাদ করতে গিয়ে মরছে, আহত হইছে কিন্তু কাউকে ধর্মীয় কারণে মারেনি।

 সুতরাং, বুঝতে হবে মাঠ পর্যায়ে হিন্দু সমাজ সুখে শান্তিতে থাকলেও, তাদেরকে ভয়-ভীতি ঢুকিয়ে 'হিন্দু নির্যাতন' এর ধোঁয়া তুলে ভারত ও বাংলাদেশে ভারতীয় সেবা দাস'রা সরাসরি বাংলাদেশকে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে অস্থিতিশীল করতে চায়; এতে করে স্বয়ং মোদীর যে গত নির্বাচনে ভরা-ডুবি হইছিল- যার কারণে মোদী এবার কোয়ালিশন বা জোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হয়ে গদিতে আছেন- সেটাকে সময়ে সময়ে শক্তিশালী করতেছে- বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতাকে দেখিয়ে। নচেৎ, মোদীর কোয়ালিশন পাটনার যদি অপজিশন লিডার কংগ্রেসে যায়, তাহলে মোদীর গোদি চলে যাবে। মূলত, এই কারণেই মোদীর বিজেপি আর RSS হিন্দুত্ববাদী পান্ডা'রা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরোও ঘোলাটে করিয়ে দেখাতে চায় --"বাংলাদেশ মে হিন্দু খাতরে মে হ্যাঁ!"
 
কিন্তু, বাস্তবতা হলো- বিজেপি নেতৃত্বাধীন মোদী সরকার ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যে জোট গঠন করে দূর্বল হয়ে আছে, সেটার বিকল্প ন্যারেটিভ হিসেবে বাংলাদেশ ইস্যুকে নিয়ে নিজেকে হিন্দুত্ব রক্ষক হিসেবে ভারতীয় রাজনীতিতে তুলে ধরছেন-- ঠিক একই কারণে জাতিসংঘে মিটিংয়ে চা-ওয়ালা মোদী নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সাথে দেখা করেননি- মোদী চাইছে একটা কথিত কল্পিত 'হিন্দু নির্যাতন' বিরুদ্ধে ভারতের তার নিজের ইমেজ রক্ষা করতে- কিন্তু মোদী আবার ঠিকই ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেখা করার জন্য বলেছিল। 
 
পক্ষান্তরে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ড. ইউনূসের জাতিসংঘে মিটিং খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সাফল্যমন্ডিত হয়েছিল- যার ফলে- বিগত ৫২ বছরের ইতিহাসে সরাসরি পাকিস্তান টু বাংলাদেশ জাহাজে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়, বাংলাদেশও বিকল্প রপ্তানি বাজার হিসেবে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এর সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচল করে আমদানি-রপ্তানি শুরু করে-- ভাবা যায়- অনেকেই জানতো না ভারতের দাপটের কারণে বাংলাদেশ তার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সরাসরি সমুদ্রপথে বাণিজ্য করতে পারতো না! ভারতের সমুদ্র বন্দর ও কারগো বিমান বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশকে সারাবিশ্বের সাথে বাণিজ্য করতে হত! আর, দেশের মানুষ এগুলো জানতই না! বর্তমানে, মালদ্বীপ হয়ে দ্রুততম রুটে ভারতকে এড়িয়ে অধিকাংশ রপ্তানী হচ্ছে, বেছে যাচ্ছে বিশাল অংকের টাকা যা আগে ভারত শুল্ক হিসেবে পেত এবং বর্তমানে বাংলাদেশ তাঁর সাপ্লাই চেইনে অধিকতর  কন্ট্রোল ও নিরাপত্তা পেলো।
বিগত ২০২৩ সালেও ভারত বাংলাদেশে রপ্তানি করে ১১.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যা ভারতের মোট রপ্তানির শীর্ষ ৪ দেশের একটা হলো বাংলাদেশ!
কিন্তু, শেখ হাসিনা দিল্লির সেবাদাসী পালানোর পর থেকে বিগত কয়েক মাসে ১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্যও রপ্তানি করতে পারেনি ভারত-- যার কারণে ৫ই আগস্টের পর থেকে ধীরে ধীরে ডলারে বিপরীতে ভারতীর রূপির মান কমতে থাকে - বাংলাদেশ রপ্তানি নাটকীয় ভাবে কমার কারণে! 

                                         আমেরিকান ডলার বনাম ভারতীয় রুপি মুদ্রা বিনিময় হার  

অথচ, বাংলাদেশ ঠিকই বিকল্প বাজার খুঁজে কম দামে আমদানি করে, রপ্তানি বাড়িয়েছে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশে- যার কারণে ৫ আগস্টের পরে টাকার দাম ডলারের বিপরীতে তেমন একটা কমেনি এবং রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অথচ ঋণও শোধ করেছে ২.৫ বিলিয়নের মতন!
 
বাংলাদেশে কল্পিত 'হিন্দু নির্যাতন' এর কার্ড খেলে মোদীর ক্ষমতা ও চেয়ার শক্তিশালী করলেও দিন দিন বাংলাদেশে ভারত তার রপ্তানি বাজার হারাচ্ছে এবং বাংলাদেশ ড. ইউনূসের নেতৃত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোতে সরাসরি রপ্তানি বাজার বাড়াচ্ছে- তাও আবার ভারতের এতো বছরে বাংলাদেশের উপর সমুদ্র বাণিজ্যিক কন্ট্রোলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে! 
 
ভারতীয় রাজনীতি'তে বাংলাদেশকে যতটা 'ক্লাইয়েন্ট স্টেট' বা 'করদ রাষ্ট্র' মনে করুক না কেন; বা বিজেপি হিন্দু রক্ষার নামে যতই বাংলাদেশকে দখল করার কথা রাজপথে ও মিডিয়ায় বলুক না কেন -Bangladesh is playing bigger than that under Professor Yunus🇧🇩 

লেখক পরিচিতি
মোঃ মেহেদী হাসান 
শিক্ষক ও গবেষক

  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment