Bangladesh United Students of Economics-BUSE

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

Wednesday, July 12, 2017

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ : হার না মানা কৌশল


 লেখকঃ- মোঃ মেহেদী হাসান
 শিক্ষা হলো সভ্যতার রূপায়ণ। যেকোনো জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটে উচ্চশিক্ষার হাত ধরে। উচ্চশিক্ষাই নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে জ্ঞানের আলোয় জাতিকে উদ্ভাসিত করে এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলে। উচ্চশিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। আর এ অধিকারের প্রতি সম্মান দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। 
 
একজন শিক্ষার্থী বুকে ধারণ করা স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার দ্বারস্থ হয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের স্বপ্ন ভিন্ন। সমাজ বাস্তবতায় কেউ হতে চান ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার কেউবা আবার শিক্ষক। উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী মেধাবী এসব শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতায় নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে কেবল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আসন সংকটের কারণে বহু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না ।
 
আসন সংখ্যার হিসেব নিকেষঃ- ২০১৬ সালে ১০টি বোর্ডে এইচএসসি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর মোট পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গত বছরের তথ্যমতে, জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা ৪৩ হাজার ২১৪টি । আর সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল গুলোয় আসন রয়েছে ৩ হাজার ৬৯৪টি । সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬ হাজার ৯০৮ টি । বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর তথ্যমতে , ৩৪ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অনার্স পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী হল ৭.৬ শতাংশ। মূলত এই আসন ঘিরেই হবে ভর্তির তীব্র লড়াই। অর্থাৎ ২০১৬ সালের জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও ১৫ হাজার ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তির সুযোগ হারিয়ে নতুন ভাবে ২০১৭ সালের পরীক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতায় নামবে। এর মধ্যে গত বছর কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনি এরকম আরো অর্ধলাখ শিক্ষার্থী যোগ হবে এবার মূল প্রতিযোগিতায়। তার সঙ্গে জিপিএ-৩.৫ পাওয়া আরো পৌনে ৫ লাখ শিক্ষার্থীও লড়বে মূল প্রতিযোগিতায়। সুতরাং , ২০১৭ সালের একজন এইচএসসি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর জন্য এবারের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে , সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও চুপ করে বসে থাকার কোনই অবকাশ নেই।
ভর্তিযুদ্ধ প্রস্তুতিতে হার না মানা কৌশল : "ভর্তিযুদ্ধ" শব্দের মাঝেই কৌশল লুকায়িত আছে। যুদ্ধের আগে আগে কোন যোদ্ধা যদি অতি আহার বা অতি যুদ্ধসজ্জা করে থাকেন, তবেই যুদ্ধের ময়দানে সেই যে জিতবে এমন কোন গ্র্যান্টি নাই। ঠিক এমনি ভাবে প্রথম শ্রেণীর ছাত্র থেকে এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত বারো বছরের ছাত্র জীবনের প্রতিক্ষেত্রে জিপিএ-৫ এ পরিপূর্ণ থাকলেই যে সেই শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পারবে, এমন কোন গ্র্যান্টি কেউ কোন দিনই দিতে পারবে না। অনেক পরিচিত মুখকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে দেখেছি যারা ঐ বারো বছরে একবারও জিপিএ-৫ পায়নি ! বস্তুত অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীর উভয় পাবলিক পরীক্ষার একটিতে না একটিতে জিপিএ-৫ হাত ছাড়া হয়েছে। তবুও, ঐ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জিপিএ-৫ হারা ছাত্রছাত্রীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ; কারণ এরা নিম্নোক্ত মৌলিক কৌশল বা প্রিন্সিপ্যালগুলো চলেছিল---
(১) "পরীক্ষার জন্য পড়া" এই পঁচা স্বভাব ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। বেসিক ঠিক করার জন্য পড়তে হবে, ভালোভাবে জানার জন্য পড়তে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় একটি প্রশ্ন আট-দশ উপায়ে ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে করতে পারে। "একভাবেই উত্তর পারি, অন্য ভাবে আসলেই প্রশ্ন ছাড়ি" এই বদভ্যাস ছেড়ে শক্ত বেসিক গড়ার চেষ্টা করতে হবে।
(২) সময় জ্ঞান বড়ই মূল্যবান অস্ত্র এই ভর্তি নামক 'যুদ্ধে'। ৬০ মিনিটে ১০০/১২০ নৈর্ব্যক্তিক এর সঠিক জবাব হল টার্গেট। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৩০সেকেন্ড প্রতিটির জন্য, এর মধ্যেই প্রশ্নটি পড়তে হবে, বুঝতে হবে, ক্যালকুলেশন করতে হবে আবার ঘর পূর্ণ করতে হবে! আবার প্রশ্ন দেওয়ার আগে, পরে ও চেকিংয়ের সময় কিছু সময় এমনিতেই নষ্ট হবে। অর্থাৎ নিট সময় দ্বারাবে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড প্রতিটি নৈর্ব্যক্তিকের উত্তরের পিছনে। মজার কথা হলে, সাধারণ পাবলিক পরীক্ষার মত যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাগুলোর সময় দেওয়া হতো, তবে প্রায় সকল পরীক্ষার্থীই ভেবে চিন্তে পরিপূর্ণ উত্তর দিয়ে আসতে পারতো। কিন্তু, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এটাই একটা সিক্রেট পলিসি যে, এখানে দূর্বল চিন্তার, কোন ধীর অসাড়ের স্থান নেই। আর এই জন্যই অধ্যয়নরত ছাত্ররাও এই সিক্রেট পলিসির অপপ্রয়োগ করে পরীক্ষার আগের রাতে র্যাগিং করে, যারা সবল ও অদম্য তারা হাজার কষ্টেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ছাড়বে; আর বাকীরা একদিনের মেহমান, হোক না সে ডাবল জিপিএ-৫!
সুতরাং, বাসায় বিগত বছরের সকল ভার্সিটির প্রশ্নের উত্তর ৬০ মিনিটের পরিবর্তে ৪৫ থেকে ৫০ মিনিটেই শেষ করার প্র্যাকটিস করতে হবে।
(৩) কোন ইউনিটে পরীক্ষা দিবো, সেই ইউনিট অনুসারে পড়তে হবে। রেজাল্ট এখনো আসেনি, তাই বলে সব পড়ে জগা খিচুড়ি বানাবো এমনটা হবে পুরাই সময় নষ্ট। যেমন রেজাল্ট আশা করা যায়, সেই অনুসারে ইউনিট বেছে পড়তে হবে।
(৪)"সখী প্রেম কারে কয়, বাতাসে সুযোগ উড়ায়ে যায়, আমি রয়ে যাই দেবদাস হয়ে হায়!" অনেকেই দেখেছি স্কুল কলেজে বাবা-মার শাসনে শাসিত থাকলেও ভর্তি কোচিংয়ে গিয়ে শরীরে হাওয়া লাগিয়ে চলে। এই ক্ষণিকের হাওয়া সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুতরাং, নিজ পড়াশুনার স্বার্থ ব্যতিত কারো সাথে কোন কথা বা অাড্ডা বা টাইমপাস মোটেও কাম্য নয়।
(৫) ভর্তি কোচিংয়ের ব্যবসা জনিত সময় নষ্ট থেকে দূরে থাকতে হবে। ভর্তি কোচিংয়ে প্রায় প্রতিটি টিচার লম্বা লম্বা কথা বলে ৬০০০ থেকে ৮০০০ টাকা চুক্তিতে প্রতিটি কোর্স পড়ানোর জন্য প্রচারণা করে থাকে। কোচিংয়ের প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে উনারা নিজের পকেট ভর্তি করেন, অথচ প্রতি বিষয়ে এতো টাকা খরচ করেও ঐ টিচার উরফে বড় ভাইয়াটি ২০ থেকে ৪০ জনের ব্যাচে পড়ান, শেষমেষ ঐ কোচিং সিস্টেম! এতে করে সময় ও টাকা নষ্ট। কোচিংয়ের প্রয়োজনীয় হল প্রতিদিনের যে ২৫-৩০ মার্কসের পরীক্ষা নেওয়া হয় তাতে নিজের যোগ্যতা ও টাইমিং টা বুঝা যায় আর টুকটাক কিছু সর্টকাট টেকনিক যা ভর্তি গাইডগুলোতেই হাজার হাজার পাওয়া যাবে।
(৬) একটা রুটিন মেনে চলতে হবে। রুটিন শুধু হবে পড়ার সময়, খাওয়ার সময় এবং কোচিং এবং হালকা বিনোদনের। কিন্তু, সাবধান বিষয়ের রুটিন করা যাবে না, ভর্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত ইউনিটের সব টপিক সব সময় মাথায় রাখতে হবে। কখন কোনটা ভুলে যাও, এটা সমস্যাটা হবেই মানসিক প্রেসারের জন্য।
(৭) প্রয়োজন হলে একবেলা কম পড়ো, তাও শরীর ও মনমানসিকতা সুস্হ রাখতে হবে। কোন মতেই টেনশন ও ডিপ্রেশনে ভোগা যাবে না। মনে রাখতে হবে, টেনশন ও ডিপ্রেশন হল উঁইপোকা, সব প্রস্তুতি ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলবে! সুতরাং , ঠাণ্ডা মাথায় প্রস্ততি নিতে হবে। 
 
পরিশেষে বলবো, সমস্ত অনার্স পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শুধু ৭.৬ শতাংশ ছাত্ররাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করারর সুযোগ পায়। হীরার খনিতে হীরাই কম থাকে, কয়লা আর পাথরের সংখ্যা হিসেব করে হুশ হারিয়ে হতাশ হওয়া যাবে না। কয়লা-পাথরের মত শুধু কোয়ান্টিটি (quantity) বাড়ানো উচিত হবে না, হীরার মত নিজের কোয়ালিটি (quality) বাড়াতে হবে। মাটি আঁকড়ে ধরে থাকলেই হবে না, মাটি ভেদ করে অঙ্কুরিত হতে হবে।
নব্য তরুণদের জয় হোক। 
 
মো: মেহেদী হাসান
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ ইউনাইটেড স্টুডেন্টস অব ইকোনোমিক্স (বিইউএসই)
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
Email: mehedi7446@gmail.com 
 
Published July 3, 2017 at BALIADANGI24.COM 
Retrieve to Bangladesh United Students of Economics (BUSE) at July 12, 2017
 
  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment