লেখকঃ মোঃ মেহেদী হাসান
এক সময় দারিদ্রতায় জড়াজীর্ণ বাঙালিরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতো; সময়ের পরিবর্তনে কাজকর্মের বৈচিত্র্যতায় আজ ঐ দারিদ্র্য শ্রেণী যে কোন উপায়ে কর্ম করে বেঁচে আছে, টিকে আছে ছোট কোন স্বপ্নের নেশায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিতগণও আজকাল জীবনের মায়া ছেড়ে জীবনের মূল্য ভুলে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছেন। বহুবিধ কারণ হয়ে থাকে এসব আত্মহননের পিছনে। কিন্তু যত কারণেই হয়ে থাক না কেনো, আমরা কি ভেবে দেখেছি, আমার জীবনের মূল্য কত? একটি গল্প বলতে চাই, সেখানে আপনার জীবনের মূল্যটা খুঁজে বের করে তার বাস্তবায়ন আপনার দায়িত্ব।
এক ছোট ছেলে তার বাবাকে বললো, "বাবা আমার জীবনের মূল্য কত? "
বাবা তার হাতে একটা অদ্ভূত পাথর দিয়ে বললো, " এই পাথরটা একটা লোকাল একটা বাজারে নিয়ে যাও ; সেখানে দাঁড়িয়ে কোন কথা বলবে না, দাঁড়িয়ে থেকে কেউ যদি আসেন তবে দু'টি আঙুল দেখিয়ে দিবে "।
ছেলেছি লোকাল বাজারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। হঠাৎ, এক মহিলা তার কাছে গিয়ে বললো, " এই অদ্ভত পাথরটি কত দাম নেবে? আমি এটা আমার বাগানে সাজিয়ে রাখবো। " ছেলেটি তার বাবার কথা মত শুধু দুটি অাঙুল দেখালো। মহিলাটি বলল, " তুমি দুই ডলার (আমেরিকান টাকা) নিবে, ঠিক আছে দাও"।
ছেলেটি আবার, তার বাবাকে বললো, " দুই ডলার দাম বলেছে; বাবা আমার জীবনের মূল্য কত? "
বাবা কোন উত্তর না দিয়ে ছেলেকে বলল, " এবার পাথরটি একটা মিউজিয়ামে (জাদুঘরে) দরজায় নিয়ে গিয়ে দাঁড়াও, কেউ কিছু বললে শুধু দুটি আঙুল তুলে ধরো।"
ছেলেটি সেটা করল। মিউজিয়ামের দরজায় এক লোক বলল, "এই পাথর কোথায় পেলে! এটাতো বিরল পাথর। কত দাম নেবে? " ছেলেটি কথা বলে শুধু দুটি অাঙুল তুলে দেখাল। লোকটি বললো, "ওহ! আমি তোমাকে ২০ হাজার ডলার দেবো। "
ছেলেটি আবার বাড়ি এসে বাবাকে বলল, "পাথরটা এটা এবার ২০ হাজার ডলার বলেছে ; কিন্তু বাবা আমার জীবনের মূল কত? "
বাবা কোন উত্তর না দিয়ে আবার বলল, "এবার পাথরটি মহামূল্যবান ধাতুর দোকানে (সোনা, হীরার দোকানে) নিয়ে যাও এবং কেউ কিছু বললে শুধু দুটি আঙুল তুলে দেখাবে। "
ছেলেছি তাই করল, মহামূল্যবান ধাতুর দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। এক লোক বলল, " তুমি এই অদ্ভূত, বিরল ও মহামূল্যবান ধাতু কোথায় পেলে! কত দাম নেবে বলো? " ছেলেটি যথারীতি কথা না বলে দুইটি আঙুল তুলে ধরলো। লোকটি বলল, "আচ্ছা! তোমাকে আমি ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) ডলার দেবো"।
ছেলেটি আবার বাসায় এসে বাবাকে বলল, " এবার পাথরের দাম ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) ডলার বলছে; বাবার আমার জীবনের মূল্য কত? "
বাবা এবার বলল, " তোমার জীবনের মূল্য এই পাথরের মত। তুমি যদি এটা লোকাল বাজারে নিয়ে যাও, তাহলে তোমার মূল্য ২ ডলারের বেশি না; যদি মিউজিয়ামে নিয়ে যাও তাহলে ২০ হাজার ডলার মূল্য পাবে ; আর যদি কোন মহামূল্যবান জায়গায় নিয়ে যাও, তাহলে ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) ডলারের কম না। ওহে বৎস, এবার ভেবে দেখ তোমার জীবনকে কোথায় গিয়ে দাঁড় করাতে চাও, এবং সেই তোমার মূল্য নির্ধারণ করবে"।
হ্যাঁ! পাঠক ভাই-বোনগণ, আমরা অনেকেই বুঝি না যে কোথায় আমরা নিজেদের জীবনকে নিয়ে যাচ্ছি। সবারই মাঝে এক একটি করে মহামূল্যবান পাথর আছে, সেটা মনের গর্ত থেকে খুঁজে, পরিচর্যা করে বুঝে-শুনে জায়গা মত নিয়ে আসুন, হয়তো সেটাই মিলিয়ন ডলারে হবে; নয়তো দুই ডলারেই লোকাল বাজারে দুই পা-ওয়ালা হিসেবে মূল্য পাবেন। আর যদি কখনো নিজের জীবনের মূল্য লোকাল বাজারেও খুঁজে না পান, তাহলে জেনে রাখুন ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি বিশ্ব জনসংখ্যায় আপনার এই অপমৃত্যু কোন'ই রেখাপাত করবে না, অন্যের কয়েকদিনের আফসোসপূর্ণ কথা-বার্তা ছাড়া। অার পরপারে তো স্রষ্ট্রার কাছে জাবাবদিহি করতে হবেই, কারণ আত্মহত্যা মহাপাপ।
আর জীবনটাকে একটু ভেবে দেখুন,বিলগেটস, ওয়ারেন বাফেট, জ্যাক মা বা রকফেলার্স বা রোথচাইল্ডস প্রভৃতি বিশ্ব ধনী বিলিয়ার্ডগণ মায়ের পেট থেকে বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে জন্মগ্রহণ করেননি। তাদের জন্মও আমাদের মতই স্বাভাবিক। তফাৎ শুধু আমাদের ও তাদের মাইণ্ড-সেট এবং কর্মগুলো।
Let's begin to change from TODAY.....
লেখক পরিচিতি
মো: মেহেদী হাসান
গবেষক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
"বাংলাদেশ ইউনাইটেড স্ট্যুডেন্টস অব ইকোনমিক্স(বিউএসই)"
ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স এর আয়োজিত ' জাতীয় উদ্যোক্তা অর্থনীতি গবেষণা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৮ পুরুস্কার বিজয়ী।
বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে অনার্স শেষ বর্ষ অধ্যয়নরত।
Email: mehedi7446@gmail.com


Post a Comment