Bangladesh United Students of Economics-BUSE

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

Tuesday, August 25, 2020

ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় ইসলামিক প্রত্ননিদর্শন ও ইসলাম প্রচারের ইতিহাস

লেখকঃ জেরিন আক্তার 

কোন একটি সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক বাহনের অন্যতম উপাদান হলো ধর্ম। ধর্ম দ্বারা সে অঞ্চলের মানব সভ্যতার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা ও বোঝা যায়। তথা, সে সভ্যতা ও সংস্কৃতির মানুষের চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ ও জীবন প্রণালীর ধারণ পাওয়া যায়। 

ধর্ম বিশ্বাস দ্বারা সৃষ্ট অদৃশ্য নৈতিকতা মানুষের সামগ্রিক জীবনকে প্রভাবিত করে।
তাই যুগে যুগে যতবার এক সভ্যতা অন্য সভ্যতাকে গ্রাস করতে চেয়েছে, আক্রমণাক্ত গোষ্ঠীর ধর্মের ওপর প্রথম আঘাত করেছে। যা আমরা দেখতে পাই নালন্দা বিহারের ধ্বংসের মধ্যে কারণ ছিলো ধর্ম ও শিক্ষা  পরিবর্তন করে নিজ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা, যদিও বির্তকিত তবে জানা যায় রাজা শশাংক তাঁর রাজত্ব কালে বৌদ্ধ ধর্মের অনেক  বিহার ধ্বংস করা হয়েছি। তেমনি ইসলাম শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যও অন্য ধর্মের ওপর প্রভাব ফেলেছে তার প্রমাণ লক্ষণসেন কে বিতাড়িত করে নদীয়া দখল অথবা হযরত শাহ জালাল (র) এর সিলেট দখলে সহযোগিতা যে কোন উদাহরণেই আমরা ধর্মের প্রভাব দেখতে পাই। 
লেখকঃ জেরিন আক্তার
যদিও ১২০৬ শতকে খিলজির মাধ্যমে লখ্নৌতি, লক্ষণাবতী হয়ে ইসলাম শাসক এর পদার্পন হয়।কিন্তুু, এরও অনেক আগে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার শুরু হয়, যায় ছোয়া উরত্তবঙ্গের ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় অঞ্চলেও আসে বলে ধারণা করা   হয়। এ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন  এর সাপেক্ষে ধারণা করা হয়। 
 ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় বরেন্দ্র এর অধীন ছিলো যা সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত গ্রন্থ হতে জানা যায়, তাঁর মতে বর্তমান বগুড়া, পাবনা ও রাজশাহী জেলার উত্তরাংশ বরেন্দ্রের    অধীন ছিলো।আর রাজশাহীর উত্তরাংশ বর্তমান ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।
ড. দীনেশ চন্দ্রসেন তাঁর বৃহৎ বঙ্গ গ্রন্থে করবর্তন রাজীর কথা উল্লেখ করেন , অনেকের মতে এর রাজধানী বর্তমান ঠাকুরগাঁও এর নেকমরদ।।
ড. নীহাররন্জন রায় তার বাঙালির ইতিহাস ( আদি পূর্)  গ্রন্থেে করবত্তন রাজীর কথা বলেন তার মতে দিনাজপুর এর একটি বাজারে প্রতিদিন ১৫০০ টাট্রু ঘোড়া বিক্রি হতো আর লক্ষণাবতী এ হাট হতে ঘোড়া কিনতো যা বর্তমানে নেকমরদ এর বাজার বলে মনে করা হয়। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় ১৯৮৪ সালে ২ টি আলাদা জেলার পরিচয়ে প্রকাশ পায়।
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা মানচিত্র
ঠাকুরগাঁও জেলার আদি নাম ছিলো নিশ্চিতপুর, যা টাঙ্গন নদের তীরের গড়ে ওঠে, ধারণা করা হয় ২ জন ব্রাহ্মণ ঠাকুর পরিবারের জন্য ঠাকুরগাঁও নাম আসে, যা ধর্মের প্রভাব বলা যেতে পারে।
৫ টি গড় এর সমন্বয়ে পঞ্চগড় নামটি আসে (রাজনগড়,দেবেনগড়,ভিতরগড়,মিরগড়,হোসেনগড়  )  
 
ভারতীয় উপমহাদেশে নবী হযরত (সা) এর আমল হতেই আরব বণিকগণ মসলা,স্বর্ণ ও আফ্রিকান পণ্যের ব্যবসা করতে আসতেন বলে জানা যায়।
নবী হযরত (সা) এর জীবনদশায় হিন্দুস্থানের সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করে "চেরামান পেরুমল "  ৬২৯ সন এ মহানবীর আমলে কেরেলাতে মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয়। এভাবে ধাপে ধাপে এ উপমহাদেশে ইসলাম প্রবেশ করতে থাকে।
চেরামান জামে মসজিদের পুরনো গঠন
চেরামান জামে মসজিদের পুরনো গঠন
 একসময় মুহাম্মদ বিন কাশিম আসেন যার  স্বাধীনমুক্ত চেতা ধর্ম পালনের আদর্শ দেখে অনেক অত্যাচারিত নিচু বর্ণের হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করে, যার ফলে ইসলাম বিস্তার লাভ করতে থাকে। গজনীর সুলতান মাহমুদ এবং মুহাম্মদ তুঘলক মুসলিমদের হয়ে রাজনৈতিক এলাকার বিস্তার করে এবং ইসলাম প্রচার আরো বিস্তৃত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খিলজি ১২০৬ সালে নদীয়া দখল এর মাধ্যমে বাংলায় প্রবেশ করেন যার ফলে ইসলাম প্রচার দ্রুত হয়।
 
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় অঞ্চলে মানে তখনকার রাজশাহীর উত্তরাংশে ইসলাম প্রচার কবে শুরু হয় এ নিয়ে সঠিক ভাবে জানা যায় না।তবে ধারণা করা হয় খিলজি দখল এর আগেই  এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার শুরু হয়।।করবর্তন রাজীতে ( বর্তমান নেকমরদ)  শেখ নেকমরদ নামে এক পীর, পীতরাজ   ও ভীমরাজ নামে দুই হিন্দু রাজাকে পরাজিত করে নিজের আস্তানা গাড়েন।। 
তাই ধারণা করা হয়  খিলজির আগেই ইসলাম প্রচার চলে এ অঞ্চল।   
 
প্রত্ননিদর্শন হলো " ইতিহাস ঐতিহ্যের শেকড়" কেননা এসব নিদর্শন দ্বারা তখনকার সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা সম্ভব।  ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন  যার দ্বারা এ দুই অঞ্চলের ইসলাম প্রচারের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। 
 
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার প্রত্ননিদর্শন  গুলির সাপেক্ষে এ দুই জেলার ইসলাম প্রচার এর ইতিহাস-     
 ঠাকুরগাঁও জেলা 

পীর শাহ নেকমরদের মাজার
রাণীশংকৈল উপজেলা হতে প্রায় ৯ কি.মি. উত্তরে নেকমরদ অবস্থিত। এ এলাকার আসল নাম হলো ভবান্দপুর। শাহ্ নেকমরদ কখন এ অঞ্চলে আসেন এ নিয়ে সঠিক কোন তথ্য জানা যায় না। তবে জানা যায় শেখ নাসির - উদ-দীন নামক এক ব্যক্তি এ অঞ্চলে আসেন যিনি পীর শেখ নেকমরদ নামে খ্যাতি অর্জন করেন। জানা যায় তিনি যখন এ অঞ্চলে আসেন তখন পীতরাজ ও ভীমরাজ নামে ২ জন অত্যাচারিত শাসক ছিলেন। শেখ নেকমরদ প্রজাদের পাশে দাঁড়াতে চাইলে ২ রাজা কৌশলে বাঁধা দেয়। তখন তিনি অলৌকিক ক্ষমতার বলে তাদের পরাজিত করেন বলে জানা যায় লোকমুখে এবং রাজাদের অভিশাপ দেন যার কারণে তাঁরা ধ্বংস হয়ে যায় আর শেখ নেকমরদ তাদের দূর্গে আস্তানা করে ইসলাম প্রচার করতেন।  এবং তাঁর নামানুসারেই এ অঞ্চলের নাম হয় নেকমরদ। মাজারটি চাঁদ তারা খচিত নকশায় অপরূপ সুন্দর এ সজ্জিত। তার মৃত্যুর পর বৈশাখ মাসে মাজারে ওরস হয় জানা যায় তার মৃত্যু বৈশাখ মাসে হয়।  
সনগাঁও শাহী জামে মসজিদ
সনগাঁও শাহী জামে মসজিদ
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালমেঘ হাট থাকে২ কি.মি উত্তরেে সনগাঁও নামক গ্রামে সনগাঁও শাহী জামে মসজিদটি অবস্থিত। 
মসজিদ এর পাশে কুয়া 
সেখানকার শিলালিপিও মসজিদ এর পাশে কুয়ার গায়ে লিখিত অস্পষ্ট বাংলা সন দেখে ধারণা করা হয় এ মসজিদটির নির্মাণ হয় মোঘল আমলে। অনুমান করা হয় সম্রাট শাহ্ আলমের সময় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফারসি ভাষায় লিখিত দেওয়াল
ধারণা করা হয় যে ঐ কুয়া'ই ছিল তখনকার সুপেয় পানির প্রধান উৎস। তবে, এটা বর্তমানে বদ্ধ ও ব্যবহৃত কুয়া। 
মসজিদটি ৩ গম্বুজ ও ৩ দরজা  বিশিষ্ট।মসজিদ এর পাশে ইটের ধ্বংস স্তুুপ এর ২ টিলা দেখা যায় এবং এর একটি ছিলো ইমামবাড়া আর একটি ছিলো মালখানা ঘর- যা কয়েক বছর আগে ভেঙ্গে ফেলা হয়। 
ইটের ধ্বংস স্তুুপ ইমামবাড়া
 ইমামবাড়া দেওয়াল এ  পোড়া মাটির ফলকে ঘোড়ার ছবি ছিলো ধারণা করা হয় মহরম এর তার্জিয়া অনুষ্ঠান পালন করতো। পাশে রয়েছে বিশাল পুকুর।
 
শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া 
শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া
ঠাকুরগাঁও উপজেলার ভাউলারহাটের কাছ অবস্থিত। এটির শিলালিপি হতে জানা যায় বাংলা ১২১৫ অব্দে প্রতিষ্ঠিত। মোঘল আমলে, পূর্ব পাশে ইমামবাড়া, ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি। এখানেও মহরম এর অনুষ্ঠান পালন হতো বলে জানা যায়।
ফতেহপুর ও মেদিনীপুর জামে মসজিদ
ফতেহপুর ও মেদিনীপুর জামে মসজিদ
২ টি মসজিদ এর স্থাপত্য সদৃশ্য। ফতেহপুর মসজিদটি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মোড়লহাটে অবস্থিত আর মেদিনীপুর মসজিদটি হরিপুর উপজেলার মেদিনীপুর গ্রামে। ২ টি মসজিদ এই মোঘল আমলে তৈরী 
  পঞ্চগড় জেলা
বারো আউলিয়ার মাজার
 পঞ্চগড় জেলার ইসলাম প্রচারে সবচেয়ে প্রতিফলিত হলো বার আউলিয়ার মাজার। আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর  এর বার আউলিয়া গ্রামে ৪৭.৭ইউনিয়ন৩ একর মাটির ওপর এ মাজারগুলি অবস্থিত।     
 
‘বার আউলিয়া’ গ্রামে বার জন আউলিয়ার মাজারটি অবস্থিত। তবে তাঁদের পরিচয় জানা যায় নি । বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইসলাম প্রচারের উদ্যেশে এই বার জন আউলিয়া সুদূর পারস্য ইয়েমেন ও আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে চট্টগ্রামের শহরে আস্তানা গেড়েছিলেন। বার জন অলীর মধ্যে প্রধান হেমায়েত আলী শাহ্‌ (রা.)। তাঁরই নেতৃত্বে আউলিয়াগণ টাঙ্গন নদী বেয়ে অথবা স্থল পথে আটোয়ারীর ওই জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁরা সবাই আধ্যাত্মিক ক্ষমতা সম্পন্ন ছিলেন। হিন্দু ব্রাক্ষণ্যবাদী রাজাদের কঠোর শাসনে নিস্পেষিত নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা বার আউলিয়ার আদেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দলে দলে ইসলামের পতাকা তলে সমবেত হন।
এই বারজন আউলিয়ার নাম তাম্রপদে খোদিত ছিল। শোনা যায়, জমিদার কানাইলাল দলুইগং মাজারের জমি দান করার সময় তা সকলের নামে তাম্রপদে দানপত্রটি খোদিত করেন। সেই তাম্রপদটি হারিয়ে গেলেও অলীদের নাম হারিয়ে যায়নি। বার জন আউলিয়া হলেন-হেমায়েত আলী শাহ্‌ (র.), নিয়ামত উল্লাহ শাহ্‌ (র.), কেরামত আলী শাহ্‌ (র.), আজহার আলী শাহ্‌ (র.), হাকিম আলী শাহ্‌ (র.), মনসুর আলী শাহ্‌ (র.), মমিনুল শাহ্‌ (র.), শেখ গরীবুল্লাহ্‌ (র.) আমজাদ আলী মোল্লা, ফরিজউদ্দীন আখতার(র.), শাহ্‌ মোক্তার আলী(র.), শাহ্‌ অলিউল্লাহ (র.)।
বার আউলিয়ার মাজার
তারা সম্ভবত সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে এ অঞ্চলে আসেন। ১৯৯০-৯১ সালের দিকে মাজার সংস্কার করার সময় যে সব পুরাতন চেপ্টা আকৃতির ইট পাওয়া যায় প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এই সব ইট কয়েক শত বছর পূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লীর সম্রাট শেরশাহের আমলে এই রকম ইট ব্যবহৃত হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলের মতো এই অঞ্চলটি হিন্দু রাজা বা জমিদারের অধীন ছিল। এই মৌজা রানীগঞ্জের জমিদারের অধীনে ছিল। জমিদার মারা যাওয়ার পর রানী রাশমনি এই জমিদারি ষ্টেটটিকে দেবোত্তর ষ্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন এবং কানাইলাল দলুইগং জমিদার বার আউলিয়ার অলীদের নামে ৪৭.৭৯ একর জমি ওয়াকফ করে দেন। যা ১৯৪০ সালে রেকর্ডভূক্ত হয়। মাজারের সেবায়েত হিসেবে বাসারত আলী শাহকে দেখানো হয়।
বার আউলিয়ার মজার ভবন
বার আউলিয়ার মৃত্যুকাল এবং তারপর তাদের কবরগুলো ঘিরে তীর্থসমাবেশ কবে থেকে শুরু হয় সেটার সঠিক ইতিহাস জানা যায়না। তবে বোঝা যায় যে, আউলিয়ারা ছিলেন অকৃতদার এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদেও ভক্তদের মধ্য হতে পর্যায়ক্রমে মাজার পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে চলে এসেছে। পরবর্তী কালে মাজারের বিশাল সম্পদরাজি খাদেমদের মধ্যকার প্রভাবশালী ভক্তের কর্তৃত্বে চলে যায়। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত খাদেম গোষ্ঠির লোকেরা মাজার দেখাশোনা ও জমাজমি ভোগদখল করতেন। বাসারত আলী শাহ এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সুলতান আলী শাহ ও হায়দার আলী শাহ্‌ মাজারের দেখাশোনা করেন। পরে ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত জমির রেকর্ড শুরু হলে সুলতান আলী ৪৭.৭৯ একর জমি নিজ নামে রেকর্ড করে নেন এবং মাজারের জমি বিক্রয় শুরু করেন।

জানা যায়, মূল মাজারের চারদিক বিশাল এলাকাজুড়ে ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। এই জঙ্গলে অনেক বাঘ, ভাল্লুক, বুনো শুকরসহ হিংস্র জীবজন’ বাস করতো। মাজারের ওপর ছনের ঘর ছিল। ওরশের আগের দিনে মাটি দিয়ে মোছা হতো। কিন’ ১৯৯০ সালের পূর্ব পর্যন্ত একটি টিনের চৌচালা ঘর ছিল। কথিত আছে যে, মাজারে ২টি বাঘ ও ২টি সাঁপ সবসময় পাহারা দিত। মাজারের পাশে ১টি কাঠের বাক্স ছিল। এই বাক্সে ভক্তজনেরা টাকা পয়সা ফেলতো। কেউ টাকা চুরির উদ্দেশ্যে বাক্সের কাছে গেলে সাঁপ দুটি বের হতো। আর বাঘ দুটি ঘরের শরের ওপর বসে থাকত। কখনো দেখা যেত আবার কখনো দেখা যেতনা। তবে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে গেলে বাঘ দেখা যেত। সেজন্য মাজারে কেউ ভয়ে যেতনা। তবে খাদেম বাসারত আলী শাহের স্ত্রী সপ্তাহে একদিন মাটি দিয়ে মুছে দেয়ার জন্য যেতেন। কিন্ত এই মহিলাকে বাঘ কিছুই করত না। বরং মহিলা বাঘের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে নামিয়ে দিতেন। বাঘগুলি নেমে চলে যেত। বর্তমানে সেই গভীর জঙ্গলও নেই। বাঘ সাঁপও নেই।
 মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ 
 
 মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ
আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মসজিদটি। ১৬৭৯ সালের ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনের সদৃশ এ মসজিদটি । মসজিদ টি অপরূপ ফুলেল নকশায় সজ্জিত। শিলালিপি হতে ধারণা করা হয় মোঘল সম্রাট শাহ আলমের সময় তৈরী, মসজিদ এর পাশে রয়েছে নাম না জানা ২ কবর। 
ইমাম বাড়া ও কবর
একটু দূরে রয়েছে ইমাম বাড়া যেখানে ইমামরা থাকতো আর ইসলাম প্রচার করা হতো। ইমাম বাড়ার সাথে রয়েছে নাম না জানা ৫ টি কবর। ধারণা করা হয় এরা ইরান হতে ইসলাম প্রচার করতে আসে এবং এখানে মারা যায় আর পাশে কবর দেওয়া হয়।
 মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ কুয়া
 পাশেই বিশাল পুকুর ও কুয়া রয়েছে পানির যোগান দেওয়ার জন্য। কুয়া পানি সাধারণত সুপেয় পানি হিসেবে ও পুকুরের পানি মাছ চাষ ও সেচের কাজে ব্যবহার করা হত। 
ফারসি ভাষায় লিখিত দেওয়াল
 একই প্রকারের লেখা পাওয়ার কারণে ধারণা করা হয় সনগাঁও শাহী জামে মসজিদ ও মির্জাপুর শাহী মসজিদ একই সময়কার স্থাপনা। 
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এ মোঘল আমলের যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন    পাওয়া গেছে  প্রায় সবকটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ ও সাথে ইমামবাড়া। ধারণা করা হয় তারা ইসলাম প্রচার এর জন্যই এ অঞ্চলে এসেছিলো। কারণ,তাদের দূর্গ বা বসবাস বসতি চিহ্ন এখনো পাওয়া যায় নি। তাছাড়া সে সময়েও  এ অঞ্চলে রাণী রাশমণির শাসনের কথা শুনা যায়। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের শুরু অনেক আগেই হলেও বিস্তৃতি পায় মোঘল আমলে। 
 
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় অঞ্চলে ও ইসলাম প্রচারের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। যা আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুগামীর সংখ্যা গরিষ্ঠ ছিলো তা এখন মুসলিম ধর্মের সংখ্যা গরিষ্ঠা অর্জন করে। যার ফলে এ দুই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও আচার অনুষ্ঠানে তুমুল পরিবর্তন আনে। এ দুই অঞ্চলে মন্দির - মসজিদ পাশাপাশি দেখতে পাওয়া যায় যা দেখে অনুমান করা যায় ইসলাম প্রচারের সময় হতেই একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার সৃষ্টি করা হয়েছিল তার প্রভাব এখনো চলমান। আর যার ফলে হিন্দু - মুসলিম একত্রে বসবাস করে শান্তির পতাকা উড়িয়ে।।
 
লেখক পরিচিতিঃ 
জেরিন আক্তার  
সেশনঃ ২০১৮-১৯ 
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়


  • 1Blogger Comment
  • Facebook Comment

1 Comment

  1. অসাধারণ। উত্তরবংগে ইসলামের প্রত্ননিদর্শন নিয়ে খুব তথ্যবহুল একটি লেখা।লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    ReplyDelete