Bangladesh United Students of Economics-BUSE

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

We are always ready to work with Govt., NGOs or any social organizations for socioeconomic development in Bangladesh.

Sunday, October 17, 2021

ডোমিনো তত্ত্ব ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতঃ- দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিতে

মোঃ মেহেদী হাসান 
 
ডোমিনো তত্ত্ব (Domino Theory) হলো- আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আইজেন হাওয়ার্ডের ৭ এপ্রিল ১৯৫৪ সালের ঘোষিত ভূ-রাজনীতির একটা তত্ত্ব - যদি একটা দেশে কোন একটা ঘটনা ঘটে, তা পার্শ্ববর্তী দেশেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে; একটা দেশ সমাজতান্ত্রিক হলে তার পাশের দেশগুলোতেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং সেই ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আমেরিকানরা এক সময় বহুদেশে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল- যার ইতিহাস, প্রভাব ও ফলাফল আমরা সকলেই জানি। 
 
কিন্তু, ডোমিনো ইফেক্ট শুধু সেই আমেরিকা-রাজনীতির ভূ-রাজনীতিতেই থেমে নেই, তা নবরূপ নিয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রে আঞ্চলিক রাজনীতির ভিতরে।সাম্প্রদায়িকতা হল ডোমিনো তত্ত্বের একটা বর্ধিত রূপ তথা ইফেক্ট।
 
ব্রিটিশ আমলে ডিভাইড এন্ড রুল এর আওতায় ভারতীয় উপমহাদেশে শুরু হয়েছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান আর সংবিধানে নিরপেক্ষ ধর্মের ওয়াদা নিয়ে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ে তৈরি হল ভারত। পাকিস্তান তৈরির সময় পূর্ব বাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তান ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানে যোগ দেয়নি- স্বয়ং শেরেবাংলা একে ফজলুল হক সহ তৎকালীন বহু নেতা বাংলা বিভাজন না চাইলেও, অসম্ভাব্য দেশ বিভাগ কেউ ঠেকাতে পারেনি ; পূর্ব বাংলার মানুষ তখন 'ধর্ম নিরপেক্ষ' হয়ে ভারতে যোগ দেয়নি, বরং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মেনে পাকিস্তানে যোগ দিয়েছে এবং অনেক দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীগণের অনেকেই ভালো করে জানতো পূর্ব বাংলা আর পশ্চিম পাকিস্তান কখনই একটা দেশ হয়ে বেশি দিন থাকবে না -- কারণ, দুই ভূ-খণ্ডের মাঝে কোন সংযোগ নেই, দুটা দুই প্রান্তে, ভাষাও মিল নেই, খাদ্যাভ্যাসও মিল নেই, দেহের গঠনও মিল নেই; শুধু মুসলমান ছাড়া পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের জাতি হিসেবে রাষ্ট্র হিসেবে কোনই মিল ছিল না। সুতরাং, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন, দেশ ভাগেরও অনেক আগের জানা-শোনা বিষয় ছিল তৎকালীন অনেক দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের। 
 

কোলকাতায় ছাত্ররাজনীতি করা বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করলো, তখন এক সময় 'ধর্ম নিরপেক্ষতা' ত্যাগ করা বাঙালিরা আবার ১৯৭১ সালে ভারতীয় সহযোগিতা পেতে ভারতের ন্যায় 'ধর্ম নিরপেক্ষতা' ও বিশ্বরাজনীতিতে সোভিয়েত রাশিয়ার সহযোগিতা পেতে 'সমাজতন্ত্র' এর আমদানি করলো -- এটা বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শিতা থেকে হয়েছে; কিন্তু পাকিস্তান বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বাঙালির প্রাণে ও সংস্কৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর বেঈমানীর পরেও ইসলাম জীবিত ছিল এবং আজো আছে। 
 
এখন, ডোমিনো তত্ত্বে আসি। পাকিস্তান শুরু থেকেই ইসলামিক রাজনীতি প্রধান রাষ্ট্র, তাদের রাষ্ট্রের (পূর্ব পাকিস্তান সহ) জন্মই ইসলাম কেন্দ্র করে। ফলে, পাকিস্তানে ইসলাম কেন্দ্রিক হওয়ার কারণে ভারতের এক সময় অখ্যাত হিন্দু রাজনীতি ধীরে ধীরে খ্যাতির জায়গায় আছে, 'ধর্ম নিরপেক্ষ ভারত' তৈরির জনক মহাত্মা গান্ধীর হত্যা করেছিল ঐ হিন্দু সংগঠন বা রাজনীতি। পাকিস্তানের ধর্মীয় রাজনীতিকে প্রতিহত করতে ভারতে হিন্দু রাজনীতি শক্তিশালী হয়েছে। পাকিস্তানে একজন হিন্দু নির্যাতিত হলে ভারতে তার প্রভাব পড়ে - পুরো মুসলমান বস্তি পুড়ে শত শত আহত ও নিহত করে দেয়। সংখ্যা লঘু জনসংখ্যা  বিবেচনা করলে বুঝা যাবে কোন দেশে কেমন সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়।
 
পাকিস্তানে বিশ্বের ২য় বৃহৎ মুসলমান জনসংখ্যা- ২১ কোটির উপর মুসলিম, মোট জনসংখ্যার ৯৬.৫ শতাংশ মুসলিম। ভারতে বিশ্বের ৩য় বৃহৎ জনসংখ্যা - ২০ কোটি মুসলমান, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৪.৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ৪র্থ -১৫ কোটি ৩৭ লাখ মুসলমান, মোট জনসংখ্যার ৯০.৪ শতাংশ মুসলমান। আফগান ১৩ তম বৃহৎ মুসলমান জনসংখ্যার দেশ- ৩ কোটি ৭০ লাখ মুসলমান, মোট জনসংখ্যার ৯৯.৭ শতাংশ মুসলমান। 
 
সুতরাং, পাকিস্তানে যতজন হিন্দু নির্যাতিত হয়, তার ডোমিনো প্রভাবে পাশের দেশ ভারতে অনেক বেশি সংখ্যায় মুসলমান নির্যাতন হয়। 'ধর্ম নিরপেক্ষ' ভারত এখন ধর্ম-রাজনীতি কেন্দ্রিক বিজেপি দ্বারা শাসিত হচ্ছে। তাহলে, এই আমূল পরিবর্তন এর প্রভাব ভারত পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে কি পড়বে? ডোমিনো ইফেক্ট কি বলছে? 
 
 আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ভারতে মুসলমান নির্যাতন আরো বেড়েছে, ভারতীয় মিডিয়ায় তালেবানদের নিয়ে অপ্রচার চলছে, বাংলাদেশীরা কেনো তালেবান বিজয়ে উল্লাস করছে, তা নিয়েও ভারতীয় মিডিয়ায় ব্যাপক অপপ্রচার চলেছে, কাশ্মীরে আরো অতিরিক্ত সিকিউরিটি ও অপারেশন বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, ১৩তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ আফগানিস্তান ৩ কোটির মুসলমানদের হুজুররা ক্ষমতায় আসার কারণে ভারতীয় বিজেপি সরকারের অবস্থা ও বিজেপি'র সমর্থকরা পুরো পাগল হয়ে গেছে! এটা হলো, আফগানিস্তানের ভারতের উপর ডোমিনো ইফেক্ট। 
 
বাংলাদেশ ভারতের অনুকরণে ১৯৪৭ এর ইসলাম'কে ছেড়ে রাষ্ট্রীয় ভাবে 'ধর্ম নিরপেক্ষতা' আমদানি করলেও, ভারতেই এখন বিজেপি'র ধর্মী রাজনীতি ক্ষমতায় এবং মুসলমান নির্যাতন সেখানে কংগ্রেস সরকারের তুলনায় বহুগুণে বেড়েছে ; তাহলে সেই ডোমিনো তত্ত্ব বলছে-- বাংলাদেশেও এর প্রভাব বিপরীতমুখী হয়ে পড়বে - অর্থাৎ এখানেও হিন্দু নির্যাতন বাড়তে পারে এবং ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতি বাড়বে। কিন্তু, বাংলাদেশের কখনও রাজনৈতিকভাবে কোন ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসেনি এবং সামনে আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। 
 
উপরুন্ত, সারাবিশ্বের যে কোন দেশে ( ফ্রান্স, ইউরোপে ইত্যাদি ) নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে ব্যাঙ্গ চিত্র বা কোরআন অবমাননার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের বহুবার হয়েছে। ভারতের হিন্দুরা ফ্রান্সের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে ব্যাঙ্গ করাকে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সমর্থন দিয়ে আসছে এবং বাংলাদেশে হিন্দু সমাজ নীরবতা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ অনেক বেশি ক্ষিপ্ত ভারতীয় মুসলমান নির্যাতনে দেখে, বাংলাদেশের মুসলমান সমাজে ভারতীয় প্রভাব দেখে, বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ ক্ষিপ্ত ৯০.৪% মুসলমানদের দেশে হাজার হাজার ওলামা একরাম বছরের পর বছর জেলে আছে, নানান রাজনৈতিক মামলায় জেলে, পঁচছে কেউ ফাঁসিতে মরেছে। 
 
বাংলাদেশের কোন হিন্দু সংগঠন ভারতীয় মুসলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঢাকায় বা অন্য কোন শহরে মিছিল সমাবেশ বা প্রতিবাদ করে নাই; কোন আলেমকে কেন জেলে ধরে রেখেছে তার জন্য কোন হিন্দু সংগঠন এগিয়ে আসেনি। এমন কি হুজুর শ্রেণীর উপর এমন লাগাতার রাষ্ট্রীয় হামলা মামলার সময়ও হিন্দুদের প্রতিবাদ করতে দেখিনি, দেখেছি নীরবে থাকতে , দেখেছি আনন্দিত হয়ে সরকারের প্রশংসা করতে।  এভাবে দীর্ঘ দিন ধরে, এদেশের মুসলিম সমাজের রক্তক্ষরণ, বেদনাটা অনেক দীর্ঘ দিনের, অনেক চেপে থাকা কষ্ট, ক্ষোভ।  এগুলো না বুঝেই, শুধু ক্ষমতার জোরে আর ভারতের জোরে এদেশে আদৌ কি সাম্প্রদায়িক সংঘাত বন্ধ করা যাবে? এই ডোমিনো ইফেক্ট কি এমনি এমনিই শেষ হয়ে যায়? ১৯৪৭ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার এই মর্মান্তিক প্রতিচ্ছবি কি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ফুটে ওঠেনি? মূর্তির পায়ে পবিত্র কোরআনের মতন ঘটনায় এতদিনের দুই মেরুর চিন্তা-চেতনার সংঘাত সাম্প্রদায়িকতার রূপ নিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক এলাকাতেই ঐ সংঘাতগুলো বেশি হয়েছে, তারা নিজেরাও ঐ সংঘাত থেকে বিরত নয় এবং অনেকেই সেখানে জমি দখল ও লুটপাটের সাথে জড়িত। প্রশাসন শুধু আক্রমণকারীদের কয়েকজনকে ধরছে, গুলি করছে; কিন্তু,  এই সংঘাতের দীর্ঘ দিনের কারণ, মাধ্যম ও ফলাফল নিয়ে জড় মস্তিষ্কের প্রশাসনের কোন অভিজ্ঞতা নেই, উপলব্ধি নেই, নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে যার  অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি, ও  সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে উনি হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; তিনি কি ইঙ্গিত দিয়েছেন- সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
 
 গত ১৬ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃত্ববৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইতে গেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনেক কিছু আশ্বাস দিয়ে ভারতের নাম ধরে একটা কথা ভালো করে সতর্ক করে বলেছেন, সেটা হল, " হিন্দু নিরাপত্তা নিয়ে ভারতকেও সচেতন হতে হবে। সেখানেও (ভারতে) এমন কিছু যেন না হয় যার প্রভাব আমাদের দেশে এসে পড়ে, আর আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত আসে"। 
 
বিবিসি বাংলা মন্তব্য করেছে, " কিন্তু বুধবার হিন্দু নেতাদের পূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় দেওয়া বিবৃতিতে তিনি যেভাবে সরাসরি ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছেন তার নজির বিরল"।
 
আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডোমিনো ইফেক্ট ভেবেই ভারতকে সতর্ক হিন্দু সম্প্রদায়ের মাধ্যমে দিয়েছেন, কিন্তু বিবিসি ব্যতিত কোন পত্র-পত্রিকাই এই পয়েন্টটাকে ফোকাস করেনি। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে মুসলমান নির্যাতনের চাল-চিত্র পর্যবেক্ষণ করে আসছেন এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব কি রকমের ফুলে ফেঁপে আছে, ক্ষোভে রেগে আছে, সেটা প্রধানমন্ত্রীর নজর এড়িয়ে যায়নি। উনি শাসক হিসেবে যথেষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয়পক্ষকে সাবধান করেছেন। 
 
এমতাবস্থায়, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে হলে, উভয় পক্ষের আবেগ, ক্ষিপ্ততা কমাতে হবে, যা হবার হয়েছে - এখন সন্মান করতে শিখতে হবে। মুসলমানদের উগ্রবাদী আর হিন্দুদের ভারতবাদী বললেই আরো ক্ষোভ বাড়বে। জম্মগত ভাবে কেউ উগ্র বা সাম্প্রদায়িক হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, পরিবেশ পরিস্থিতি ব্যক্তির দীর্ঘ দিনের ক্ষোভকে পশুত্বে পরিণত করে। এগুলো অনুভব না করতে চাইলে কেউ অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলতে আসলে সে আসলে নিজেকে কৃত্রিম অসাম্প্রদায়িক লেভেল লাগাতে চাই। বাংলাদেশে মোদি আগমন বিরোধী আন্দোলন হয়েছে কিছুদিন আগে, ভারতের বিজেপি নেতারা বাংলাদেশ দখলের কথা সরাসরি ভাষণে বলে; সেই ভারতের সাম্প্রদায়িক কসাই মোদির ফেসবুক আর টুইটার একাউন্টে গিয়ে বাংলাদেশের বিচার চাইলে বাংলাদেশকেই ছোট করা হবে এবং এই ধরণের লোকজন বাংলাদেশের শান্তির একমাত্র চিহ্নিত শত্রু। পাকিস্তানের কাছে স্বাধীনতা পেতে মুসলমানরা সৌদি আরবের মুসলমানদের নেতাদের কাছে বিচার ভিক্ষা করতে যায়নি বা পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধ করেনি ; বাংলাদেশকে ভালোবাসলে বাংলাদেশের মাটিতে লড়াই করে মরতে শিখো, এটা হিন্দু মুসলিম সবার জন্য সমান কথা। জেল ফাঁসির হুজুররা কখনই বিচার চাইতে আফগানিস্তানের তালেবান বা সৌদি আরবে কাছে বা ইরান বা পাকিস্তানের কাছে বিচার চাইতে বা সাহায্য চাইতে যায়নি। এই বাংলাদেশ যাদের জন্মভূমি, এখানেই তাদের লড়াই, জীবন ও মৃত্যু--- এটাই দেশপ্রেম। 
 
ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়ে প্রকৃত মুসলমান-হিন্দু ঐক্যজোট আবার আসুক, তাহলে পুরো বিশ্ব দক্ষিণ এশিয়ার মিলিত শক্তির কাছে মাথানত করতে বাধ্য। আর, এই ঐক্যজোট ব্রিটিশরা চায়নি,আমেরিকানরা চাইবে না, জাতিসংঘ পারবেন না; সুতরাং তাদের কাছে পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশের বিচার চেয়ে লাভ নেই; যদি মুসলমান-হিন্দু ঐক্যজোট করতেই হয়, তাহলে এই তিন দেশের জনগণের আবেগ-অনুভূতি বুঝে শুনেই তিন দেশের জনগণ'দের করতে হবে- ২য় কোন রাস্তা নেই। ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই কৃত্রিম ও আংশিক অসাম্প্রদায়িকতা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে বস্তির আগুন নিভাতে পেরেছে, কিন্তু এই তিন দেশের জনগণের ক্ষোভের আগুন নিভাতে পারেনি , ঘৃণার আগুন নিভাতে পারেনি, দেশ ভাগের যন্ত্রণা নিভাতে পারেনি। ক্ষোভ- ঘৃণা ও আবেগ-অনুভূতির জায়গাটা বুঝে শুনে অতিশীঘ্র প্রকৃত হিন্দু-মুসলমান ঐক্যজোট প্রতিস্থাপন না হলে- ঐ বস্তির আগুন নিউক্লিয়ার যুদ্ধের আগুনে পরিণত হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগবে না। সুতরাং,সময় থাকতে প্রকৃত হিন্দু-মুসলমান ঐক্যজোট চাই, গড়তে হবে।
 
জয়তু বাংলাদেশ।

লেখক পরিচিতিঃ
মোঃ মেহেদী হাসান 
গবেষক ও কলামিস্ট 

  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment